মধু জমে গেলেই কি সেইটা ভেজাল মধু? আসুন জেনে নিই মধুর ব্যাপারে কিছু অজানা সত্য কথা

আমরা অধিকাংশ মানুষই মনে করি যে মধু কখনই জমে না। একসময় আমিও এমনটাই বিশ্বাস করতাম। ভাবতাম মধু কখনই জমে না। আর যদি জমে, তাহলে সেইটা ভেজাল মধু। মানে চিনি মিশ্রিত মধু।

কিন্তু এখন দেখি বিষয়টা সম্পূর্ণই উল্টো। মধুর বিজনেস করতে এসে এমন অনেক বিষয়ের সম্মুখীন হচ্ছি যা আগে কখনই আমার জানা ছিল না। আর এখন বুঝতে পারছি, আমাদের সমাজে খাঁটি মধু নিয়ে কি পরিমাণ কুসংস্কার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যেমনঃ মধু কখনই জমে না, পিঁপড়া খাঁটি মধু খায় না, মধু ফ্রিজে রাখলে তলানি পড়ে না, খাঁটি মধু আগুনে পুড়ে যায় আর ভেজালটা পুড়ে না। ইত্যাদি।

অবশ্যই পড়ুনঃ খাঁটি মধু চেনার ১০০% কার্যকরী উপায় জেনে নিন ২ জন বিশেষজ্ঞ এর কাছ থেকে

মধু বিক্রেতা আলামিন, Honey seller alamin, modhu alamin

নিচের এই সাইন্টিফিক ব্যাখ্যাটি সরোবর ফেসুক পেজ থেকে কপি করা

মধু জমে যায় কেন?

মধু ক্রেতারা মধুর জমাকে ভুল বোঝেন। তারা একে ভেজাল মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মধু জমে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তরল থেকে দানাদার অর্ধ-কঠিন অবস্থায় যাওয়ার এ প্রক্রিয়াকে গ্র্যানুলেশন (granulation) বা কঠিন বাংলায় স্ফটিকায়ন বলে।

মৌচাক থেকে আলাদা করার পর মধু যত দ্রুত জমে, চাকের ভেতর মোমের কোষে থাকলে তত দ্রুত জমে না। প্রতিটি মধুর স্ফটিকায়নের একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। ওই সময়ের মধ্যে মধু যদি না জমে তবে সম্ভাবনা আছে যে ওই মধুতে ভেজাল আছে।

জমে যাওয়ায় মধুর রং বদলে যায়, তরল থেকে দানাদার হয়ে যায় কিন্তু মধুর গুণগত মান কমে না।

জমা মধু

মোটা দাগে বলতে গেলে মধু হলো একটি ঘন শর্করা দ্রবণ। সাধারণত এতে ৭০% এর বেশি শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট ও ২০% এর কম পানি থাকে। তার মানে স্বাভাবিকভাবে পানিতে যে পরিমাণ চিনি দ্রবীভূত হয়, মধুতে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। 

চিনির মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ দ্রবণকে অস্থিতিশীল করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এমনভাবে প্রকৃতিকে সৃষ্টি করেছেন যে সে ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়। 

একারণেই মধুর জমাট বাধা শুরু হয়। পানি থেকে গ্লুকোজ আলাদা হয়। গ্লুকোজ স্ফটিক আকারে জমতে থাকে। আর দ্রবণটি আস্তে আস্তে সাম্যাবস্থার দিকে যায়। 

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, একই সময়ে কেনা দুটো মধুর মধ্যে একটা মধু জমে যাচ্ছে, আরেকটা যাচ্ছে না কেন? 

মধুর শর্করাতে প্রধানত প্রধান অণু থাকে - গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ। 

freeze honey explain science

গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ একেক মধুতে একেকরকম থাকে। সাধারণভাবে ফ্রুক্টোজ ৩০-৪৪% এবং গ্লুকোজ থাকে ২৫-৪০%। 

বিভিন্নজাতের মধু বিভিন্ন হারে স্ফটিকায়িত হয়। এ হার ১-২ মাস থেকে ২ বছর হতে পারে।

গ্লুকোজের দ্রবণীয়তা কম, এটি স্ফটিকায়ন হয় দ্রুত। যে মধুতে গ্লুকোজ বেশি জমে তাড়াতাড়ি (সরিষা ফুলের মধু)। যে মধুতে গ্লুকোজ কম এবং পানি বেশি সেটা জমে ধীরে ধীরে (সুন্দরবনের মধু)।

কিছু মধু পুরোপুরি জমে যায় (সরিষা ফুলের মধু)। আবার কিছু মধুতে  নিচে স্ফটিক আর উপরে তরলের একটি স্তর থাকে।  মধুর প্রকারের ভিত্তিতে স্ফটিকের আকারও বিভিন্ন রকম হয়। মধু যত দ্রুত স্ফটিকায়িত হয়, স্ফটিক তত পাতলা হয়। স্ফটিকায়িত মধুর রঙ তুলনামূলকভাবে মলিন হয়।

এছাড়া আরো কিছু নিয়ামক রয়েছে যা স্ফটিকায়ন শুরু করা, তরান্বিত করা ও স্লথ করায় ভূমিকা রাখে। গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ ছাড়া মধুর অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট উপাদান, এমাইনো এসিড, প্রোটিন, খনিজ, এসিড ইত্যাদিও স্ফটিকায়নের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এছাড়া ধুলা, পরাগরেণু, মোমের কণা বা বহিরাগত স্ফটিকের উপস্থিতিতেও স্ফটিকায়ন তরান্বিত হতে পারে। 

freeze honey explain science 2

তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও প্যাকেটজাত করার ধরণও পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। মধুর ধরনের উপর ভিত্তি করে কক্ষ তাপমাত্রায় স্ফটিকায়ন শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস এবং বিরল ক্ষেত্রে কয়েক দিন লাগতে পারে।

অনেকের জমা মধু খেতে ভালো লাগে। এক চামচ স্ফটিকায়িত মধু তরল মধুতে যোগ করলে বাকি মধু দ্রুত জমে যাবে। 

সোর্সঃ SHOROBOR - সরোবর

বিঃদ্রঃ মধু কিনতে ও মধু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে যোগাযোগ করুনঃ

Comments