৫০% মুল্য ছাড় সরিষা ফুলের মধু

alamin honey, khati modhu

বিঃদ্রঃ ৫০% মুল্য ছাড় দেখে কেউ ভাব্বেন না যে এই পোস্টের মাধ্যমে ৫০% মূল্য ছাড়ে মধু বিক্রি করছি। এই পোস্টটি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, কিছু দিন আগে আমি ৫০% মূল্য ছাড়ে সরিষা ফুলের মধু বিক্রি করে আমার যে অবিজ্ঞতা হয়েছে সেইটা শেয়ার করা। এই পোস্টটি আপনি পড়তে পারেন। এখান থেকে জানা অজানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন যা একজন মধু ক্রেতা হিসেবে আপনার জানা প্রয়োজন।

পণ্যের উপর মূল্য ছাড়! এইটা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। অনেক নামীদামী কোম্পানিই তাদের বিজনেসের স্বার্থে এই কাজটি করে থাকেন। তবে মধুর উপরে ৫০% মুল্য ছাড় এইটা একটু বাতিক্রমধর্মী কাজ। তারপরও আমি এই কাজটি করেছিলাম। এই কাজটি করার ফলে লাভের চেয়ে আমি অনেক বেশি লস খেয়েছি এবং অনেক ব্যাডফিডব্যাক পেয়েছি। এখানে আমার এবং কাস্টমারের মাঝে যে ভুল হয়েছিলো সেইটাই শেয়ার করতে যাচ্ছি। বিষয়গুলো আপনারাও জানা দরকার।

৫০% মূল্য ছাড়ে মধু বেচার পর আমার যে তিক্ত অবিজ্ঞতা হয়েছে আমি সেইটাই এখানে শেয়ার করতে এসেছি। এর ফলে আপনি মধুর ব্যাপারে অনেক জানাঅজানা সত্য কথা জানতে পারেন। এবং নিজেই খাঁটি এবং ভেজাল মধু চেনার উপায় সমূহ অনেকটাই বুঝতে পারেন।

৫০% মূল্য ছাড়ের সরিষা ফুলের মধু ও আমার বাস্তব অবিজ্ঞতা

"৫০% মুল্য ছাড়ে" মধু বিক্রি করে আমার যে অবিজ্ঞতা হয়েছে তাতে বলা জাই এইটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অবিজ্ঞতা। আমি ভাবতেও পারিনাই ব্যাপারটা এতো জটিলতার দিকে যাবে। অবশ্য আমারও কিছু ভুল ছিলো। এজন্য আমি সরি।

আমার প্রথম যে ভুল ছিলো তাহলো "সরিষা ফুলের মধু শীতকালে জমে জায়" এই কথাটা বলি নাই। ইচ্ছে করেই বলিনাই ব্যাপারটা এমন নই। যাইহোক ব্যাপারটা আমার ভুল ছিলো। আবারও সরি।

এবার চলুন শোনা যাক আমার সামান্য ভুলের জন্য সম্মানিত ক্রেতারা আমাকে কি কি ধরণের ফিডব্যাক দিয়েছেন?

  • আপনি একজন প্রতারক।
  • আপনাকে বিশ্বাস করেই ভুল করেছি।
  • সস্তার ৩ অবস্থা।
  • মধু কখনই জমে না, সো মধুটা ভেজাল।
  • আগে একরকম মধু দিয়েছেন এখন আরেকরকম। তার মানে ঝামেলা আছে।
  • ইত্যাদি.........।
উপরের ফিডব্যাকের জন্য আমি একটুও হতাশ না। বরং আমি আনন্দিত। কারন আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভুল গুলো আমি দেখতে পেরেছি। এবং বাংলাদেশের মানুষের মাঝে মধুর ব্যাপারে যে ভুল ধারণা/ কুসংস্কার আছে এইটা শোধরানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমি জানি, আমাদের দেশের সাধারন মধু ক্রেতাদের মাঝে মধুর সম্পর্কে সঠিক ধারণা খুবই কম। এই জন্যই বোধই ভ্যাজাল মধু ব্যবসায়ীরা তাদের বিজনেস দিন দিন জমিয়ে তুলছেন।

এবার চলুন দেখাযাক, উপরের এই ফিডব্যাক গুলো কতটা যৌক্তিক?

প্রথম ফিডব্যাকঃ আপনি একজন প্রতারক।
উত্তরঃ আমি আপনাদের চোখে প্রতারক হতে পারি। তবে আমি সজ্ঞানে স্বেচ্ছায় প্রতারক হবার মতো কনো কাজ আমি করি নাই।

দ্বিতীয় ফিডব্যাকঃ আপনাকে বিশ্বাস করেই ভুল করেছি। 
উত্তরঃ আমাকে বিশ্বাস করে যদি ভ্যাজাল মধু পেয়ে থাকেন তাহলে "ভুল" করেছেন। তবে আপনি ভ্যাজাল মধু দিই নাই।

তৃতীয় ফিডব্যাকঃ সস্তার ৩ অবস্থা।
উত্তরঃ একদম ঠিক বলেছেন। এইটাই আমার বড় ভুল ছিলো এতো কম দামে লস করে মধু বেচা।

চতুর্থ ফিডব্যাকঃ মধু কখনই জমে না, সো মধুটা ভেজাল।
উত্তরঃ এইটা একদম ভুল কথা। বিস্তারিত জানতে নিচের ভিদেওটি দেখুন।


পঞ্চম ফিডব্যাকঃ আগে একরকম মধু দিয়েছেন এখন আরেকরকম। তার মানে ঝামেলা আছে।
উত্তরঃ একদম ঠিক বলেছেন। তবে একটু মাথা খাটালেই বুঝবেন যে কালোজিরা ফুলের থেকে যে মধু আসে সরিষা থেকে সেই সেম টু সেম মধু আসবে না। কারন এখানে ফুলের ভিন্নতা আছে। তাই কালার, স্বাদ, গন্ধ রঙ এর বিন্নতা থাকবেই। এইটাই কি স্বাভাবিক না?

বিঃদ্রঃ মধু কিনতে ও মধু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে যোগাযোগ করুনঃ

Comments

  1. Replies
    1. আলহামদুলিল্লাহ্‌। শুনে খুশি হলাম। আমার ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন, মধু সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

      ধনবান।

      Delete

Post a Comment